Pic collected from Internet
Pic collected from Internet

Paramita Gharai: Kolkata, Sep 17, 2016: আজ বিশ্বকর্মা পুজো। কলকাতার আকাশে ঘুড়ির মেলা। কত তাদের রঙ,কতই না বাহারী নাম– পেটকাটি, চাঁদিয়াল,চৌরঙ্গী, চাপরাশি, মোমবাতি,বগ্গা ,আরো কত কি!‌ শরতের সোনালী আকাশে ঘুড়ির ওড়াওড়ি দেখতে দেখতে মনটা উড়ে যায় খ্রীষ্টের জন্মেরও আগেকার দুনিয়ায়।

খ্রীষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে সম্ভবতঃ ঘুড়ির আবিষ্কার হয় চীনে, তখন রেশমের সুতো ব্যবহার হত ঘুড়ি বানানোর জন্য। সম্ভবতঃ ৫৪৯ খ্রীষ্টাব্দে শুরু হয় কাগজের ঘুড়ি ওড়ানো। ঘুড়ি ব্যবহার হত নানারকম কাজে–দূরত্ব মাপতে,হাওয়ার দিক ঠিক করতে,সেনাবাহিনীর সংকেত পাঠানো ও যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে। এখন প্রাচীন রীতি অনুযায়ী চীনে বছরের নবম মাসের নবম দিনে ঘুড়ি উড়িয়ে শয়তানদের তাড়ানো হয়।

Photo Courtesy: FB post of Sujoy Bhattacharya
Photo Courtesy: FB post of Sujoy Bhattacharya

এ তো গেল চীনের কথা। চীন থেকে ঘুড়ি পাড়ি জমিয়েছে কম্বোডিয়া,ভারত,জাপান,কোরিয়া ও পাশ্চাত্য দেশগুলোতে।‌ পৃথিবীর সব দেশেই ঘুড়ি জনপ্রিয়। ব্রাজিলে অবসর কাটানোর অন্যতম আকর্ষণ ঘুড়ি ওড়ানো। চিলিতে ঘুড়ি ওড়ানো হয় ওদের স্বাধীনতা দিবসের দিন ১৮ ই সেপ্টেম্বর। অগষ্ট মাসে প্রচুর হাওয়া বয়ে যায় কম্বোডিয়ার ওপর দিয়ে। তাই বছরের এই সময়টাকেই এখানকার মানুষ বেছে নিয়েছে ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য। গায়নায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ঘুড়ি ওড়ে ইস্টারের দিন। গ্রীস, সাইপ্রাসে ঘুড়ি ওড়ানো হয় সোমবারের আকাশকে পরিষ্কার রাখার উদ্দেশ্যে।কারণ‌‌ লিটারজিকাল‌‌ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ‌এটি সপ্তাহের প্রথম দিন। আফগানিস্তানে ঘুড়িকে বলা হয় ‘‌দরি’, যদিও ‌তালিবানি নিষেধাজ্ঞা আছে ঘুড়ি ওড়ানোর ওপর। বসন্তকালে পাকিস্তান পালন করে ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব ‘‌জশন–ই–বাহারান’‌। ভিয়েতনামে ঘুড়ির সাথে লেজের বদলে লাগানো হয় ছোট্টো বাঁশী যাতে ওড়ার সময় হাওয়ার আঘাতে সুরেলা ধ্বনি ভেসে আসে।

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে ঘুড়ি ওড়ে। উত্তরভারতে ওড়ে মূলতঃ মকরসংক্রান্তির সময়ে। হায়দ্রাবাদে প্রজাতন্ত্র দিবস অর্থাৎ ২৬শে জানুয়ারী থেকেই। পশ্চিমবাংলার বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময়ে ঘুড়ি ওড়ে। বিশ্বকর্ম্মা পুজোর দিন কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় ঘুড়ি উড়লেও সরস্বতী পুজো থেকে পৌষ সংক্রান্তি পর্যন্ত আকাশে ঘুড়ি দেখা যায় বর্ধমান ,উত্তর চব্বিশ পরগণা সহ বিভিন্ন জেলায়। মূলতঃ এই সময় ফসল ঘরে উঠে যায় আর আগেকার সময়ে মাঠ থাকত ফাঁকা ,তাই শীতের রোদ গায়ে মেখে ঘুড়ি ওড়ানোর আদর্শ সময় এইটাই। ত্রিপুরাতেও ঘুড়ি ওড়ে বিশ্বকর্মা পূজোর দিনে। কিন্তু এবার আগতলার আকাশ ঘন মেঘে ঢাকা। বিশ্বকর্মার পূজো শেষ হতে না হতেই হুড়মুড়িয়ে বৃষ্টি নামল। বিকেলের দিকে বৃষ্টি থামলেও বৃষ্টি ভেজা আকাশে আজ ঘুড়ি নেই।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুড়িকে কেন্দ্র করে উৎসবের প্রচলন আছে। চীনের ওয়েইফেং-এ এপ্রিল মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত বসে আন্তর্জাতিক ঘুড়ি ওড়ানোর আসর। তেমনি আমাদের দেশে মকরসংক্রান্তির সময় গুজরাটে আয়েজিত হয় তিনদিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব ‘‌উত্তরায়ণ’‌।