CRPFT Jawans in ROP duty along NH44 in Tripura
CRPFT Jawans in ROP duty along NH44 in Tripura
CRPFT Jawans in ROP duty along NH44 in Tripura (Photo clicked before Aug 23, 2016)

ProMASS News Bureau: Teliamura Circle: Aug 27, 2016: দিন পনেরো আগে অশান্ত জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তার কারণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে রাজ্যে কর্মরত সি আর পি এফ-এর ৭১, ১৪০, ১২৪–এই তিনটি ব্যাটেলিয়ন-এর প্রায় ৩০০ জন জওয়ান জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে রাজ্যে সি আর পি এফ জওয়ানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইতিমধ্যে, ২৩ আগষ্ট আই পি এফ টি-র মিছিলকে কেন্দ্র করে আগরতলা শহরে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তা ঠেকাতে ও শহরে শান্তির পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সি আর পি এফ-কেই বিশেষ টহলদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই দুয়ের ফলে জাতীয় সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থার লাগাম অনেকটাই হালকা হয়ে গেছে| তথ্যভিজ্ঞ মহল মনে করছে, শীঘ্রই জাতীয় সড়কের ঢিলেঢালা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনা দরকার| রাজধানীতে গৃহীত আপৎকালীন অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্ষুন্ন না করেই তা করা যেতে পারে, এবং সেরকম বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছেও|

উল্লেখ্য: তেলিয়ামুড়ার চাকমাঘাট থেকে মুঙ্গিয়াকামী সহ জিওলছড়া, গন্ডাছড়া ও ধলাই জেলার বিভিন্ন এলাকা সহ আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়কের নিরাপত্তার দায়িত্বে (আর ও পি) রয়েছে সি আর পি এফ-এর ৭১ ব্যাটেলিয়ন। জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনায় উদ্ধার কাজ পরিচালনা, সুরক্ষা সহ একাধিক দায়িত্ব সি আর পি এফ জওয়ানদের ওপরই| কেন্দ্রীয় এই আধা সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তার মতে, আঠারোমুড়া, মুঙ্গিয়াকামী, ৪৩ মাইল, ৩৬ মাইল, জিওলছড়া ইত্যাদি এলাকায় আর ও পি-র দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনের তুলনায় হাতে থাকা জওয়ানের সংখ্যা অনেক কমে গেছে| এটা ঝুঁকির হলেও, তা নিয়েই সামলাতে হচ্ছে, জানান ওই কর্মকর্তা|

Sick? Want to consult Apollo Doctors? Avail Apollo Tele-Medicine facility under Govt Scheme in Agartala. Call: 977 402 5071
Sick? Want to consult Apollo Doctors? Avail Apollo Tele-Medicine facility under Govt Scheme in Agartala. Call: 977 402 5071

আগরতলা শহরে শান্তি-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সি আর পি এফ-এর উপর বিশেষ টহলদারির দায়িত্ব বর্তেছে | জানা গেছে, এই জোয়ানদের শহর ও শহরের কাছাকাছি থাকা বাহিনীর কোন ব্যাটালিয়ন থেকে আনা হয়নি|  তাঁরা আসছেন বড়মুড়া পাহাড়ের পাদদেশে ৭১ ব্যাটেলিয়ন সদর কার্যালয় থেকে| আগরতলা থেকে দীর্ঘ ৮০ কিমি দূরত্ব থেকে আসছেন প্রতিদিন| সকাল ৭টা নাগাদ বাসে রওয়ানা হয়ে, পাহাড়ি ও সমতল রাস্তা পাড়ি দিয়ে এসে ওই ৯০ জন জওয়ান এবং নিরাপত্তা আধিকারিকরা আগরতলা শহরে টহলদারির দায়িত্ব পালন করছেন এবং সারা দিন ও রাত ধরে টহলদারি করে নিজেদের ডেরায় ফিরতে ফিরতে প্রায় মধ্য রাত্রি। পরের দিন ভোর হতে না হতেই নিয়মমাফিক ব্যক্তিগত ও পেশাগত কর্তব্য পালনের পর আবার সকাল ৭ টায় রওয়ানা আগরতলার উদ্দ্যেশ্যে | এভাবেই চলছে তাদের টহলদারির দায়িত্ব। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, যথেষ্ঠ সময়ের জন্য বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছে না বলে জওয়ানদের উপর শারীরিক ও মানসিক ধকল যাচ্ছে|

Banner_2D copy

তথ্যভিজ্ঞ মহলের মতে, চাকমাঘাট ও মুঙ্গিয়াকামী থেকে সি আর পি এফ-এর জওয়ানদের তুলে না এনে, খয়েরপুর, গোকুলনগর, জিরানিয়া থেকে টি এস আর এবং বুদ্ধমন্দিরস্থিত আসাম রাইফেলস-এর জওয়ানদের আগরতলায় টহলদারির কাজে লাগানো যেত। কিম্বা আগরতলার কাছেই  রয়েছে সি আর পি এফ-এর গ্রুপ সেন্টার সেক্টর এবং আছে জিরানীয়ার খুমলুঙ-এ। কিন্তু এইসব স্থানের জওয়ানদের আগরতলায় টহলদারিতে তেমনভাবে ব্যবহার করা হয় নি। অনেকের মতে, চাকমাঘাট কিংবা মুঙ্গিয়াকামী থেকে জওয়ানদের তুলে আনায় একদিকে যেমনি জ্বালানির খরচ সহ অন্যান্য খরচ বেড়েছে, তেমনি আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়কে আর ও পি-র কাজও অংশত বিঘ্নিত হচ্ছে|

জাতীয় সড়কে যাতায়াত করেন এমন কয়েকজন যাত্রী ও লরি চালক হালকা ভাবে মন্তব্য করেছেন, বিকেলের দিকে আসা-যাওয়ার পথে হাতে গোনা কয়েকজন জওয়ানকে দেখা গেছে, তাও দু-এক জায়গায়| জাতীয় সড়কে এখন তো বোধহয় টহলদারির  প্রয়োজন-ও নেই, নির্দ্বিধায় বলেন এক যাত্রী|

কিন্তু সাবধানের তো মার নেই, তাই বলেই তো জাতীয় সড়কে আছে আর ও পি | আচমকা নিরাপত্তার আঁটুনি আলগা হলে একটু তো দুর্ভাবনা হয়ই, মন্তব্য এক লড়ি চালকের|