প্রতি বছরই কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রক পর্যটন এবং আপ্যায়ন শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যটন পুরস্কার প্রদান করে। ১৯৯০-এর দশকের প্রথম দিক থেকে এই পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি সহ শ্রেণীবদ্ধ হোটেল, ঐতিহ্যশালী হোটেল, স্বীকৃত ট্রাভেল এজেন্ট, ট্যুর অপারেটর ও পর্যটন পরিবহন অপারেটর, ব্যক্তিবিশেষ ও অন্যান্য বেসরকারি সংগঠনগুলিকে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা পালনের স্বীকৃতি স্বরূপ এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়াও পর্যটন শিল্পকে উজ্জীবিত করতে, সুস্থতর প্রতিযোগিতার ব্যবস্থাকে উৎসাহ দেওয়ার জন্যও, এই পুরস্কার প্রদানের সংস্থান রয়েছে। বিগত কয়েক বছরে ভ্রমণ, পর্যটন ও আপ্যায়ন শিল্পের ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যটন পুরস্কার সাফল্যের সম্মানজনক স্বীকৃতি হিসেবে মান্যতা অর্জন করেছে।
http://www.enewstime.in/?p=772
পর্যটন একটি বহুমাত্রিক শিল্পক্ষেত্র এবং সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী বৈচিত্রময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে উৎকর্ষ ও কৃতিত্বকে স্বীকৃতি জানাতে প্রতি বছরই পর্যালোচনার মাধ্যমে নতুন নতুন পর্ব ও শ্রেণি এই পুরস্কারের জন্য নির্ধারণ করা হয়। ২০১০-এর এই পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে “ভারতে পর্যটন গন্তব্যের জন্য শ্রেষ্ঠ নাগরিক ব্যবস্থাপনা” শিরোনামে একটি নতুন পর্বের প্রচলন করা হয়। দেশের বিভিন্ন নগর, শহর ও গ্রামে যে সব স্থানীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা তথা নাগরিক পর্ষদ রয়েছে সেগুলির দ্বারা বিভিন্ন পর্যটন এলাকা, উদ্যান ইত্যাদি ক্ষেত্রের ব্যবস্থাপনায় পরিবেশ বান্ধব রক্ষণাবেক্ষণের কাজকে উৎসাহিত করতে এই পুরস্কারটি চালু করা হয়। পুর এলাকার প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ যাতে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে দায়বদ্ধ থাকে এবং সংশ্লিষ্ট নগর, শহর কিংবা গ্রামের চারপাশের এলাকাকে আকর্ষনীয় করে তুলতে এবং একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতাকে পরিপুষ্ট করার লক্ষ্যে কাজ করে, সেই বিষয়ে উৎসাহ দিতে চালু করা হয় এই পুরস্কার।
http://www.enewstime.in/?p=772
মন্ত্রক একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াস হিসেবে দেশের পর্যটন সংশ্লিষ্ট উৎপাদন ও উপস্থাপনাকে বৈচিত্রময় করে তুলতে নতুন নতুন শাখা-প্রশাখা ও প্রকোষ্ঠের বিকাশ ও এগুলিকে উৎসাহদানের ব্যবস্থা করেছে। এবং একই সঙ্গে সারা বছর ধরে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পর্যটন ক্ষেত্রে ভারতকে তুলে ধরতে এবং এ সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন শ্রেণির পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণের প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। এই প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনায় রেখে মন্ত্রক ২০১১-য় “চিকিৎসা পর্যটন সুবিধাবলী” এবং “ট্যুর অপারেটর উৎসাহ দান ক্ষেত্র” শিরোনামে নতুন দু’টি বিভাগের পুরস্কার চালু করেছে।
২০১২ সালে “শ্রেষ্ঠ ঐতিহ্য নগরী” এবং “শ্রেষ্ঠ ঐতিহ্য ক্ষেত্র” শিরোনামে নতুন দু’টি পুরস্কার প্রচলিত করা হয়েছে।
পর্যটন শিল্পের গন্তব্যের বিকাশে ও উৎসাহদানে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ‘চলচ্চিত্র’ উল্লেখনীয় ভূমিকা পালন করছে। দেশজ এবং আন্তর্জাতিক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের স্থান ও গৃহীত দৃশ্যের এলাকাগুলি বহুক্ষেত্রে পর্যটনের গন্তব্য হিসেবে মান্যতা পেয়েছে। এই মাধ্যমটির গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিতে কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রক এ বছর জাতীয় পর্যটন পুরস্কার হিসেবে “চলচ্চিত্রে উৎসাহ বান্ধব সবচেয়ে সেরা রাজ্য/ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল” তথা “মোস্ট ফিল্ম প্রমোশন ফ্রেন্ডলি স্টেট/ ইউ টি” শিরোনামে একটি নতুন পুরস্কার প্রচলনের ব্যবস্থা করেছে।