স্বচ্ছ ভারত অভিযানের অন্যতম উপাদান হল বিভিন্ন শহর ও নগরগুলিকে পরিচ্ছন্ন ও দূষণমূক্ত রাখতে কঠিন বর্জ্য সাফাইয়ের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কাজকর্ম। এই প্রেক্ষাপটে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা শহরের উন্মুক্ত ও জনসাধারণের যাতায়াতের জায়গাগুলিকে পরিচ্ছন্ন রাখতে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা এরই মধ্যে সারা দেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আগরতলার নগর এলাকাকে পরিষ্কার রাখতে ও বাসযোগ্য করে তোলার জন্য কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রচুর সংখ্যক কর্মী ও বর্জ্য পরিবহনের যানবাহন নিয়োজিত করা হয়েছে। পাশাপাশি কঠিন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের কেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে এখানে।
মাত্র কয়েক বছর আগে এ শহরের বাসিন্দারা তাদের বাড়ি-ঘরের আবর্জনা সংগ্রহ করার প্রাথমিক উদ্যোগটি প্রথমবারের মতো চাক্ষুস দেখতে পেয়েছিল। শহরের গলিগুলির কোনায় কোনায় আবর্জনা ফেলার জন্য বর্জ্যপাত্র বা ‘বিন’ সরবরাহ করার কাজ শুরু হয়েছিল। নির্ধারিত বিশেষ ধরনের গাড়ির সাহায্যে ওই আবর্জনা তুলে নেওয়ার কাজও শুরু হয় একই সময়ে। প্রতিটি বাড়ি থেকে বিভিন্ন এনজিও প্রতি মাসে বাড়ি পিছু ৩০ টাকার বিনিময়ে এখনো আবর্জনা সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
গত দু’বছরে নগরীকে নিপাট পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আগরতলা পুর নিগম বেশ কয়েকধাপ এগিয়ে গিয়ে বিপুল কর্মযজ্ঞের ব্যবস্থা করেছে। নগরীর পরিচ্ছন্নতাকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গুরুত্ব দিচ্ছে আগরতলা পুর নিগম। বর্তমানে এই পুর নিগম প্রতিদিন সকালে শহরের রাস্তাঘাট ও বাজারগুলি পরিষ্কার করার জন্য ৪০০-রও বেশি সাফাই কর্মী নিয়োজিত করেছে। প্রথম ধাপে সংগৃহীত আবর্জনা ৫০০-র মতো ছোট ও মাঝারি আকারের বিনে জমা করা হয় এবং পরবর্তী পর্যায়ে এই আবর্জনা বিশেষ ধরনের ময়লাবাহী গাড়ির সাহায্য ডাম্পিং স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে বাড়ি-ঘরের জমা আবর্জনা, ভেন্ডার, হকার ও পথচারীদের ফেলা বর্জ্য, বিভিন্ন বাজারের শাক-সব্জি ও মাছের আবর্জনা, ওয়ার্কশপ ও কারখানাগুলির বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্জ্য এবং এ ধরনের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জটিল বর্জ্যসমূহ সংগ্রহ করার জন্য আগরতলা পুর নিগম তথা এ এম সি একটি পৃথক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
http://www.enewstime.in/?p=822
আগরতলা নগরীর প্রধান প্রধান সড়কগুলিকে ধোয়া ও সাফাই করার জন্য বর্তমানে একটি বিশেষ ধরনের স্যুইপিং মেশিন ভেহিক্যালকে কাজে লাগানো হচ্ছে। প্রাপ্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে শহরের উপান্তে ২৫ কিমি দূরে দেবেন্দ্র নগরের ডাম্পিং ইয়ার্ডে আবর্জনা সংগ্রহ করে সাফাই কর্ম ও পরিবহনের জন্য ২৫-টি বিশেষ ধরনের গাড়িকে কাজে লাগাচ্ছে এ এম সি। এই ডাম্পিং ইয়ার্ডে ১৬ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এরই মধ্যে এই প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রটিতে কম্পোস্ট বা মিশ্রসার ও পরিবেশ-বান্ধব ইট উৎপাদনের কাজ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা প্রতিদিন গড়ে ২৫০ টন।
***** লেখক: শ্রী শুভাশিষ কে চন্দ, মিডিয়া ও কমিউনিকেশন অফিসার, পি আই বি, আগরতলা
Courtesy: http://pib.nic.in Blog