Feb 07, 2017: ভারত সরকারের নাগরিকত্ব বিল সংশোধন-এর প্রস্তাবের প্রতিবাদে আগামীকাল (৮ ফেব্রুয়ারি) ১২-ঘন্টার বন্ধ-এর ডাক দিয়েছে অল ত্রিপুরা ইন্ডিজিনাস রিজিওন্যাল পার্টিস্ ফোরাম। এই বন্ধের তীব্র বিরোধিতা করছে সি পি আই এম এবং এর আদিবাসী ভিত্তিক শাখা সংগঠনগুলি। অন্যদিকে ফোরামও বন্ধ সফল করতে মরিয়া। গিরিবাসীদের মতে, বন্ধকে ঘিরে উত্তেজনার পারদ বাড়ছে। এদিকে প্রশাসনও সতর্ক রয়েছে। বিশেষত: গত ২৩ আগস্ট আগরতলার বুকে পৃথক রাজ্যের দাবিতে আইপিএফটি’র সমর্থকদের তান্ডবের পর প্রশাসন এই বন্ধের কারণে শান্তি শৃঙ্খলা যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।
গত ১৫ জানুয়ারি, ত্রিপুরার আদিবাসী ভিত্তিক তিনটি আঞ্চলিক দল – আইপিএফটি, আইএনপিটি এবং এনসিটি – মিলে অল ত্রিপুরা ইন্ডিজিনাস রিজিওন্যাল পার্টিস্ ফোরাম গঠন করে এবং নাগরিকত্ব বিল-এর সংশোধনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে পাহাড়ি এলাকায় (টি টি এ ডি সি) আগামীকাল ১২-ঘন্টার বন্ধের ডাক দেয়।
এরপর থেকেই বন্ধের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে সি পি আই এম-এর আদিবাসী সংগঠনগুলি – গণমুক্তি পরিষদ, ত্রিপুরা আদিবাসী কর্মচারি কমিটি এবং আদিবাসী ছাত্র সংগঠন টি ওয়াই এফ আই-এর পক্ষ থেকে জোরালো প্রচার চালানো হয়। বসে ছিল না ফোরামের নেতৃত্বও।
এডিসির মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য রাধাচরন দেববর্মা বলেন, এই বনধ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং প্ররোচনামূলক। যদিও বিজেপি এই বন্ধের বিরোধিতা করছে, তবে প্রত্যক্ষভাবে বন্ধ বিরোধী প্রচার চালায় নি। কংগ্রেস এবং তৃণমুল কংগ্রেস দল এই বন্ধ সম্পর্কে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে।
সি পি আই এম এবং এর আদিবাসী ভিত্তিক শাখা সংগঠনগুলির বন্ধ বিরোধিতার প্রেক্ষিতে ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক জগদীশ দেববর্মা গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট সকলকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ফোরাম এই বন্ধকে সফল করতে শক্ত হাতে বন্ধ বিরোধীদের মোকাবিলা করবে। এরপরেই পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তবে এডিসি সদর দপ্তর খুমলুঙ সহ অন্যান্য উত্তেজনাপ্রবণ এলাকায় ব্যাপক সংখ্যায় সুরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা ও হিংসা এড়াতে রাজ্য পুলিশ ছাড়াও সিআরপিএফ, টিএসআর-দের টহলদারি চালানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল সূত্রে জানানো হয়েছে।