ProMASS, Agartala: Nov 4, 2016:
ত্রিপুরায় বিজেপি’র রাজনীতি হিন্দুত্ববাদ কেন্দ্রীক হবে কিনা সে বিষয়ে এখনো কোন স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় নি। জাতীয়তাবাদ এবং হিন্দুত্ববাদ – এই দুই আদর্শ প্রকাশ্যে প্রচার করার ক্ষেত্রে বিজেপি’র রাজ্য নেতৃত্বের অনীহা দলের প্রকৃত লক্ষ্য সম্পর্কে সমর্থকদের মধ্যে প্রশ্ন জাগিয়ে তুলেছে বলে জানা গেছে। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় দুষ্কৃতিকারিরা হিন্দুদের উপর অত্যাচার এবং হিন্দু মন্দির ধ্বংস করেছে। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে রাজ্যের বিজেপি নীরব ভূমিকা পালন করছে। ত্রিপুরার নিকটতম প্রতিবেশি রাষ্ট্রে হিন্দু নিগ্রহের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কোন বিক্ষোভ জানায় নি বা মিছিল করে নি রাজ্যের বিজেপি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক স্ব-ঘোষিত বিজেপি’র কর্মীর জানালেন বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর আক্রমনের প্রতিবাদে বিজেপি’র, নিদেনপক্ষে, বিক্ষোভ-মিছিল করা উচিত ছিল। এক্ষেত্রে বিজেপি’র ব্যর্থতা আমার মত অনেক তরুন সমর্থকদের মনে দল সম্পর্কে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করেছে।
পাশাপাশি দিল্লিতে সম্প্রতি কেন্দ্রের এন ডি এ সরকারের ‘এক পদ, এক পেনশন’ নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী প্রাক্তন সেনানীর আত্মহত্যার ঘটনায় ত্রিপুরা তথা সর্বভারতীয়স্তরে বিজেপি অনেকটাই বেকফুটে ঠেলে দিয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।
ত্রিপুরায় বামবিরোধীতার ক্ষেত্রেও বিজেপি এখনো জুতসই কোন আন্দোলন বা ইস্যু খুঁজে পায় নি। বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে কেবলমাত্র কিছু নেতিবাচক প্রচারই বিজেপি’র মূল হাতিয়ার। ইস্যু-ভিত্তিক প্রচার-আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যর্থতায় বিজেপি’র নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের বিশ্বাস।
স্বঘোষিত ঐ বিজেপি সমর্থকের কথায়, বামপন্থীরা বিভিন্ন ইস্যুতে ভারত সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি রাজ্যে উন্নয়নকে ইস্যু করে জোরালো প্রচার চালিয়েছে। একই অভিমত ব্যক্ত করে রাজ্যরাজনীতির বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বামফ্রন্ট, মূলত সিপিআই-এম পরিকল্পনামাফিক দেশের কৃষক আত্মহত্যা, অত্যাবশকীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং দলিত নিগ্রহের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নিয়মিতভাবে পুরোদমে প্রচার-আন্দোলন করছে। এরই সঙ্গে সিপিআই-এম তুলে ধরছে রাজ্যের ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং বিভিন্ন প্ররোচনামূলক পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দক্ষতা। এই ধরণের আক্রমণাত্মক ও তথ্যমূলক প্রচারের প্রেক্ষিতে রাজ্যের বিরোধী দলগুলি স্বজনপোষণ এবং কিছু দুর্নীতির অভিযোগ তোলা ছাড়া গঠনমূলক প্রচার এখনো শুরু করতে পারে নি, ফলে জনমানসে রাজ্যের বিরোধী দলগুলি সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণার বদলে নেতিবাচক ধারণাই ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।