A Bengali story in which a kid explores beauty of nature, plays like imaginary adventure characters. He rescues a tiny baby bird, talks with him. And later ….
Paramita Gharai
Agartala, March 23, 2020:
চোখ বুজে ঘাপটি মেরে অনেক্ষন ধরে শুয়ে ছিল তিতির, ঠাকুমার গল্প বলা শেষ হতেই নাক ডাকার হালকা আওয়াজ কানে আসছিল। জানলা দিয়ে বগনভেলিয়া গাছের রঙিন পাপড়ি গুলো দেখা যাছিলো। হওয়ার সঙ্গে নানান ভঙ্গিমায় খেলছিল ওরা। তার সাথে দেখা যাচ্ছে নারকেল গাছের পাতার হাত তালি। খেলতে যাওয়ার জন্যে মনটা ছটফট করছিল। ঠাকুমা ঘুমাতেই তাই পা টিপে টিপে বেরিয়ে এলো বাগানের রাস্তার দিকে। বাইরে তখন বিকেলের হলুদ আলো ছড়িয়ে পড়েছে গাছের পাতায় ফুলের পাপড়িতে।
Little kid Titir with his grand parents, explores nature
ক’দিন ধরে ভ্যাপসা গরমে প্রাণ আইঢাই করছিল। গরমের ছুটির দুপুরগুলো ঘামতে ঘামতে একসা । তাতে অবশ্য তিতিরের কিছু এসে যায়না। কলকাতা ছেড়ে সে এখন ব্যারাকপুরে ঠাকুমা-দাদুর (Grand parents) কাছে ছুটি কাটাতে এসেছে। বাবা-মা অফিস করছে আর সে এখানে সারাদুপুর বাগানে ঘুরে বেড়াচ্ছে । ব্যারাকপুরে তিতিরদের বড় দোতলার বাড়ি আর বাড়ির সামনে পেছনে অনেক গাছ। আম, পেয়ারা ,কাঁঠাল,নারকেল, সুপুরি, কুল, করমচা, জামরুল,বাতাবি আরো কত কি। ঠাকুমা আবার সব্জি বাগানও করেছেন। ফুলগাছও আছে। লাউ (gourd), কুমড়ো (Pumpkin), উচ্ছে (Bitter Gourd), পুঁই এর সাথে টগর ,বেলি, রকমারি জবা,শিউলি ,স্থলপদ্ম, কামিনী ফুলের গাছগুলোও তিতিরকে ভীষণভাবে ডাকতে থাকে।
দুপুরে খাওয়ার পরে ঠাকুমা-দাদুর চোখ একটু বুজে এলেই তিতির অ্যাডভেঞ্চারে (Adventure) বেরিয়ে পড়ে । কোনোদিন ঘোড়ায় চেপে রাক্ষস মারতে বের হয় তো কোনোদিন শেরউডের রবিনহুড। কোনোদিন আবার টম সইয়ার হয়ে গুপ্তধনের খোঁজে গুহায় ঢোকে। গুহা মানে একটা মাটির টালির ছাদওয়ালা ঘর যেখানে বাগানের খুরপি, কোদাল, জলের ঝারি, সার, টব আর নানারকম সরঞ্জাম রাখা থাকে। আবার কোনোদিন ভাবুক হয়ে কোনো গাছের ডালে বসে পাখি প্রজাপতি কাঠবেড়ালিদের সঙ্গে খেলা করে।
সেদিন দুপুরে আলিবাবা সেজে ‘গুহা’র দরজার সামনে দাঁড়িয়ে সবেমাত্র বলেছে, ”চিচিংফাঁক ”, অমনি ঝমঝম করে বৃষ্টি নামল। খেলতে খেলতে কখন যে আকাশ কালো হয়ে মেঘ করেছে খেয়ালই করেনি তিতির। কি আর করবে? আলিবাবা সঙ্গে সঙ্গে গুহায় ঢুকে গেল বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে । ভেজা যাবে না। ভিজলেই ঠাকুমা বকবে, মা-কে ফোন করে জানাবে। আর বাবা বলবে ,”চলে এসো।” পুরো ছুটিটাই মাটি হয়ে যাবে ।

Titir finds, rescues little parrot
টালির ছাদের ওপর বৃষ্টির ফোঁটাগুলো অনবরত বাজনা বাজিয়ে চলেছে। তিতির একটা বাতিল মোড়ায় বসে হাঁ করে বৃষ্টি দেখছে। বালিগঞ্জে ফ্ল্যাটের বারান্দার গ্রিলের বাইরে আকাশটা খুব ছোট্ট । তাছাড়া হোম ওয়ার্ক, ক্যারাটে ক্লাস আর ছবি আঁকার চাপে বৃষ্টি দেখার সময় কোথায়? ছোট্ট আলিবাবা এখন গুহায় বসে বৃষ্টি দেখছে আর ভাবছে বৃষ্টি থামলেই গুপ্তধন নিয়ে বেরিয়ে যেতে হবে । না হলে দস্যু দলের সঙ্গে দেখা হবার প্রবল সম্ভাবনা। অবশ্য দেখা হলে খুব যুদ্ধ হবে। কোমরে গোঁজা বাঁশের কঞ্চিটাকে একবার হাত দিয়ে ধরে দেখে নেয় আলিবাবা তরোয়ালটা ঠিকঠাক আছে কিনা । কোমরের আর একদিকে পিসিমনির একটা পুরোনো বটুয়া বাঁধা। তার মধ্যে গুপ্তধন- কয়েকটা ঢিল , নুড়িপাথর। বৃষ্টিটা থেমে যেতে আলিবাবা পা টিপে টিপে বের হল গুহা থেকে। এবার পালাতে হবে। পেয়ারাগাছে বাঁধা কাল্পনিক গাধাটার বাঁধন খুলতে গিয়ে গাছের ডালে চোখ আটকে গেল তিতিরের । একটা ছোট্ট টিয়াপাখি (little parrot) । চুপ করে বসে আছে। ভিজে ডানা মেলে সে আর উড়তে পারছে না।
হাতে নিয়ে বুক আগলে টিয়ার ছানা নিয়ে ঘরে ঢুকলো তিতির। ঠাম্মা তখন রান্নাঘরে চা করছে। তিতিরকে দেখে বললেন, ” এই যে দাদাভাই! কোথায় ছিলে? বৃষ্টিতে ভিজেছো নাকি? ওমা! হাতে কি? ঘরে এনেছো কেন? পুষি দেখলে খেয়ে নেবে তো।”
ঠাম্মাই সব ব্যবস্থা করল । একটা বড় ঝুড়ি বের করল চিলেকোঠার ঘর থেকে। তিতিরের বাবার ছোটবেলার পড়ার টেবিলের ওপর একটা খবরের কাগজ পেতে রাখল টিয়াকে। তারপর একটা বাটিতে জল আর ভিজে ছোলা দিল। প্রথমে জড়সড় হয়ে বসে ছিল টিয়াপাখিটা। ঠাম্মা বলল,”দাদুভাই, তুমি দাঁড়িয়ে থাকলে ও কিছু খাবে না। এদিকে চলে এসো।”
”কেন ঠাম্মা? ” তিতির অবাক হয়ে প্রশ্ন করল।
– তুমি তো ওর থেকে বড়ো। তাই ও তোমাকে ভয় পাচ্ছে।
-কিন্তু আমি তো ওকে ভালবাসি ঠাম্মা !
-আসলে ও তো অনেকক্ষণ না খেয়ে আছে। তাই ওর বুদ্ধি ঠিক করে কাজ করছে না। তুমি চলে এলে ওইরকম ঠিক খাবে। তারপর ওইরকম বুঝতে পারবে যে তুমি ওর বন্ধু।
তিতির ঠাম্মার কথামতো ডাইনিং টেবিলে এসে বসল। ঠাম্মা লুচি আলুরদম করেছে। তিতির কোনরকমে খেয়ে দৌড়ে গেল টিয়াপাখির (Parrot) কাছে।
তিতির দেখল ছোটো পাখিটা কিছূটা জল আর ছোলা খেয়েছে। ঝুড়িটা চাপা দিয়ে নিশ্চিন্ত হলাম তিতির।
রাতে ঠাম্মাই পাখিটা কে নিয়ে এল ওদের শোবার ঘরে। দোতলার দক্ষিণ দিকের ঘর,জালনার পাশ দিয়ে একটা চাঁপাগাছের ডাল দোল খাচ্ছে । বৃষ্টিভেজা ফুলের গন্ধ সারা ঘরময়। মেঘের পাশ দিয়ে একফালি চাঁদ উঁকি মারছে। জোৎস্নার আলোয় রুপোর মতো ঝলমল করছে বৃষ্টি ধোয়া গাছের পাতাগুলো । সেদিকে তাকিয়ে টিয়াপাখি টার কথাই ভাবছিল তিতির। ছোট্ট পাখিটা সবেমাত্র উড়তে শিখেছে। বাবা-মার সাথে উড়ে এসেছিল ওদের বাগানে পেয়ারা খাবে বলে। কিন্তু ঐ দুপুরের বৃষ্টিটা সব গোলমাল করে দিল। ঠাম্মা ঘুমিয়ে পড়লে তিতির চুপিচুপি বিছানা থেকে উঠে এসে দাঁড়ালো পাখিটার টেবিলের সামনে। ঝুড়িটা তুলতেই টিয়ারানী ‘ক্যাঁ ক্যাঁ’ করে উঠল। তিতির অভয় দিয়ে বলল,”আরে আমি তিতির । ভয় পেও না। ”
– ওহ! আমি ভাবলাম পুষি নাকি!
-না না,পুষি এঘরে আসতে পারবে না। ঠাম্মা পুষিকে আজ বেঁধে রেখেছে নীচের ঘরে। এখন বলতো, তুমি এখানে এলে কি করে?
-আরে! আমি তো সবে উড়তে শিখেছি। এই প্রথম বাবা-মা ভাইবোনদের সঙ্গে উড়ে এলাম তোমাদের বাগানে। পেয়ারা খেতে খেতে কখন যে এদিকে চলে এসেছি খেয়াল করিনি । বৃষ্টি নামলো । আমিও আর কারুকে খুঁজে পেলাম না। এতটা ভিজে গেছিলাম যে শীত করছিল। তাই চুপ করে বসে ছিলাম। তারপর তুমি তো আমাকে নিয়ে এলে।
-হুম। বুঝলাম । কিন্তু তুমি বাড়ি ফিরবে কেমন করে? রাস্তা চেনো কি?
– সেটাই তো ভাবছি । একা একা তো ফিরতে পারব না। কাল যদি মা-বাবা নিতে না আসে আমাকে এখানেই থেকে যেতে হবে। ভয় তো কেবল পুষিকে।
-আমার মনে হয় সকাল বেলা তোমার বাবা-মা তোমাকে ঠিক নিতে আসবে।
‘সবুজ খুশি’: Ethereal happiness
কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভেঙে গেল তিতিরের । আরে ভোর হয়ে গেছে তো। চাঁপাগাছটার ডালে দুটো সবুজ রঙের পাখি না। তড়াক করে লাফিয়ে নামে তিতির বিছানা থেকে। চোখ কচলিয়ে এসে দাঁড়ালো জানালার সামনে। তাই তো! এ পাখি দুটো নিশ্চয়ই টিয়ারাণীর বাবা-মা। তিতির দৌড়ে গেল টেবিলের সামনে। ঝুড়িটা তুলে ছোট্ট পাখিটাকে বের করে এনে রাখলো জানালার ওপর । অমনি গাছের থেকে টিয়াপাখি (Parrot) দুটো উড়ে এল। ছোট্ট পাখিটা কে ঠোঁট দিয়ে দুজনে কত্তো আদর করল (Ethereal happiness) । এরপর তিতিরের দিকে তাকিয়ে কিচিরমিচির করল তিনজনে মিলে। তারপর মাঝখানে টিয়ারানী কে রেখে ডানা মেলল আকাশে। ‘সবুজ খুশি’ -তে (Ethereal happiness) তিতির হাত নেড়ে বলল,”টাটা। আবার এসো কিন্তু … ।”