Nandita Datta
Goddess Kali – also known as Shyama Maa – is considered as power behind the creation of the Universe. Worshiping Maa Kali is popular in West Bengal, some of Northeastern States including Tripura, Parts of Bangladesh. Kali Puja is observed on new moon day. While this part worship goddess Kali, rest of India worship goddess Laxmi on Diwali.
Nandita Datta, in the article below, explored meaning of Kali in brief and mentioned about several important Kali Temples including Maa Tripureswari Temple – one of the 51 peethas. Nestled in natural ambience, Kali temples in Tripura offer unique serene experience to domestic and foreign tourists.
Agartala, October 26, 2019: কালী শব্দটি কাল শব্দের স্ত্রী লিঙ্গ।সময় অর্থাৎ কালকে যিনি রচনা করেন তিনিই কালী।(কাল+ঈ) দেবীকে সময়ের থেকে আগে স্থান দেওয়া হয়েছে।মহাভারতে যে কালীর উল্লেখ আছে তিনি দেবী দুর্গার এক রূপ।শ্যামা বা আদ্যাশক্তি নামেও পূজা করা হয়। শাক্ত মতে কালী বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির আদি কারণ।বাঙ্গালী সমাজে কালীর মাতৃরূপের পূজা বিশেষ জনপ্রিয়।অন্যভাবে সৃষ্টি, স্থিতি,পরিবর্তন, ধ্বংস,শক্তির দেবী রূপেও তিনি বন্দিতা।
আমাদের রাজ্যে উদয়পুরের ত্রিপুরা সুন্দরী একান্ন পীঠের একপিঠ।ত্রিপুরা সুন্দরী কষ্টি পাথরে নির্মিত।১মিটার ৫৭ সেন্টিমিটার উচ্চতা।প্রস্থে ৬৪ সেন্টিমিটার। দেবীর চার হাত।মাথায় জটারাশি মুকুট রয়েছে।

ইতিহাসে প্রাপ্ত কাহিনি থেকে জানা যায়, বিষ্ণুর জন্য নির্মিত মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন মাতা । কথিত আছে, ১৫০১ খৃষ্টাব্দে রাজা ধন্য মানিক্য মাতা মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। দেবীমা-এর পাশে আছেন ছোটমা। ছোটমার বিগ্রহের উচ্চতা ৪৮ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ ৩৫ সেমি। উভয় মায়ের নাক চ্যাপ্টা চোখ ছোট।মাতা ত্রিপুরেশ্বরী পূজিতা হন ষোড়শী রূপে আর ছোটমা পূজিতা হন চণ্ডী রূপে। ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির নামেই মায়ের এই মন্দির পরিচিত।
মন্দিরটি পোড়া ইটের তৈরী।দেওয়ালে রয়েছে কুলুঙ্গী। ইতিহাসবিদদের মতে এই মন্দির হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম স্থাপত্য নিয়েই তৈরী।
প্রধান দ্বার পশ্চিমমুখী। উত্তর দিকে রয়েছে আরেকটি দ্বার।চারকোনায় চারটি প্রধান স্তম্ভ।উপরের গম্বুজে রয়েছে কলসী এবং পিতলের ধ্বজ দণ্ড।
এই মন্দিরের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল, যে কোন ধর্মের লোকের জন্য এর দ্বার উন্মুক্ত এবং এই মন্দিরে ধন্যমানিক্যের আমল থেকে প্রচলিত পদ্ধতিতেই পূজার প্রচলন।
উদয়পুরের ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির-এর পরেই দর্শনার্থী বা পর্যটকদের গন্তব্য সিপাহীজলা জেলার কসবায় কসবেশ্বরী মন্দির। যা কসবা কালী বাড়ি বাড়ি নামে পরিচিত।এই মন্দির ধন্য মানিক্যের আমলে তৈরী। প্রথম দিকে দেবী দুর্গার পূজা হলেও কয়েক বছর পর থেকে কালী পুজার প্রচলন।এখানে দেবীকে মহিষাসুর মর্দিনী রূপেই পূজা করা হয়।
এছাড়া,আগরতলায় আছে উমা মহেশ্বরী কালী বাড়ি, উত্তর ত্রিপুরায় ধর্মনগরের কালাছড়া কালীবাড়ি, মনুভ্যালি চা বাগানের কালি বাড়ি, কালীশাষন কালি বাড়ি এবং দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার মুহুরীপুরে রাজ রাজেশ্বরী মন্দিরে দেওয়ালি তে কালীপূজা দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয়।
দেবী মাহাত্ম্য এবং মূর্তি বা মন্দির চিরকাল পর্যটককে আহ্বান করে।
ধর্মীয় পর্যটনের ক্ষেত্রে ত্রিপুরার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা কালী মন্দিরগুলি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষনীয় – শুধুমাত্র ধর্মীয় পর্যটনই বা কেন, প্রকৃতিপ্রেমী নিছক ভ্রমণকারীদের কাছেও ত্রিপুরার কালী মন্দিরগুলি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনস্থল।