ProMASS Media: Agartala: Sep 26, 2016: পাঠানকোটের পর এবার কাশ্মীরের উরি – আরও একবার জওয়ানদের রক্তে রাঙ্গা হল দেশের জাতীয় পতাকা। দায়ী কে? বাক্যবাগীষ নেতা-মন্ত্রীদের ঘন ঘন মিটিং চলছে। দিল্লি থেকে কোঝিকোড় – দেশব্যাপী ছুটে বেড়াচ্ছেন বি জে পি’র মাথারা। উড়ে আসছে স্টেটমেন্টের পর স্টেটমেন্ট। হাত-পা ছোঁড়াছুড়ি, নিন্দা দু:খ প্রকাশ করা, পাকিস্তানকে গালাগাল দেওয়া – সব কিছুই আগের মত চলছে, যেমনটা পাঠানকোটের সময় হয়েছিল। যেন রুটিনমাফিক কাজ।
আর্কষীয় ভাষণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আপাতত: একটু শান্ত হয়েছেন বোধহয়। কিন্তু উরিতে ১৭জন জওয়ানকে এমন অসহায়ভাবে শহীদ হতে হল কেন? পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী ছাড়া, সেনা প্রশাসনের দুর্বলতা দায়ী নয়তো? মন্ত্রী-সান্ত্রী-সিকি-আধুলি নেতারা গলা ফাটিয়ে না বললেও, দেশবাসী এটা ভাল করে জানে – পাকিস্তানের জঙ্গীগোষ্ঠি সীমান্ত পেরিয়ে আমাদের দেশে ঢুকে এই ঘৃণ্য অপকর্ম করেছে। কিন্তু এই ঘটনা তো নতুন কিছু নয়। যখন মোদিজী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, সেই সময় বাজপেয়ী এবং পরবর্তীকালে ড: মনমোহন সিং-এর আমলে কিংবা তারও অনেক আগে থেকেই পাকিস্তানের নাশকতামূলক কর্মকান্ড চলছে।
গত লোকসভার নির্বাচনী বক্তৃতায় মোদিজী দেশবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে, দৃষ্টান্তমূলক বীরত্বের নিদর্শন রেখে পাকিস্তানের এইসব অপকর্ম তিনি ও তাঁর সরকার বন্ধ করবেন। কিন্তু কোথায় কী? পরপর দু-দুটো বড়সড় হামলা হল, দেশের গৌরব – ভারতীয় সেনাদের রক্ত ঝরলো সন্ত্রাসীদের বুলেটে। তবে কী মোদিজীর আমলে দেশের গোয়েন্দা বাহিনী আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে? নাকি গোয়েন্দাদের গোপন খবরে গুরুত্ব দেয় নি মোদি সরকারের সেনা প্রশাসন? বিপদজনক ও স্পর্শকাতর এলাকায় সেনা ছাওনিগুলি আসলে কতটা সুরক্ষিত? সন্ত্রাসবাদ তথা পাকিস্তানকে মোকাবিলায় মোদিজীর বিদেশ নীতি আদৌ বাস্তবোচিত কী? কোন দুর্বলতার কারণে চার-পাঁচ জন সন্ত্রাসী ঢুকে পড়ে সেনা ছাউনি তছনছ করে দিচ্ছে, ভারতমাতার অপমান করার এমন অবাধ সুযোগ পাচ্ছে?
পাঠানকোট এবং উরি হামলার পর নানা প্রশ্ন জনমানসে উঁকি মারছে। দেশাত্মবোধ, দেশপ্রেম, পাকিস্তান বিরোধী শ্লোগান – সবই যেন মেকী মনে হচ্ছে। সর্ষের মধ্যেই ভূত লুকিয়ে নেই তো?